অন্যান্য

গল্পটা খরগোশ জন্ম দেওয়া এক নারীর!

অষ্টাদশ শতকের গোড়ার দিকে একটি চাঞ্চ্যলকর ঘটনা রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করে গোটা ইংল্যান্ড জুড়ে। খবরটি ছিল মেরি টফট নামে ২৫ বছর বয়সী এক নারী খরগোশের মতো প্রাণীর জন্ম দিয়েছে। শুনতে অবাক লাগলেও মেরির এই অস্বাভাবিক ঘটনাটি গোটা ইংল্যান্ডের নজরে আসে ১৭২৬ সালের অক্টোবরে যা লন্ডন পর্যন্তও পৌঁছে গিয়েছিল। এ নিয়ে সেখানকার ‘মিস্ট উইকলি’ নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত হয় খবরটি। 

সেখানে বলা হয়েছিল গিল্ডফোর্ড থেকে খুবই অদ্ভুত কিন্তু সত্য বলে নিশ্চিত হওয়া একটি খবর এসেছে। জন হাওয়ার্ড নামের এক প্রখ্যাত সার্জনের মাধ্যমে গোডালমিনে বাস করা এক গরিব মহিলা জন্ম দিয়েছেন খরগোশের মতো দেখতে একটি প্রাণী। যার হৃদপিণ্ড এবং ফুসফুস জন্মালেও বাইরে থেকে সেটির পেট দৃশ্যমান নয়। সেটির ১৪ দিন পর ওই একই চিকিৎসকের হাতেই মহিলাটি একটি নিখুঁত খরগোশের জন্ম দেন। এর কয়েকদিন অতিবাহিত হলে আরও চারটি প্রাণী জন্ম দেন তিনি। কিন্তু পৃথিবীতে আসার পর সবগুলো বাচ্চাই মারা যায়।

মেরি টফট তার এই অভাবনীয় মাতৃত্ব সম্পর্কে বলেছিলেন একটি মাঠে কাজ করার সময় তিনি একটি খরগোশ দেখতে পান যেটি তাদের দেখে দৌড়ে পালাচ্ছিল। খরগোশটিকে ধরার চেষ্টা ব্যর্থ হলে মেরির মনে সেটির প্রতি তীব্র আকাঙ্খা সৃষ্টি হয় আর গর্ভাবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে তার গর্ভপাতও হয়। বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন মতভেদ দেখা দিয়েছিল। তখনকার সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অপ্রমাণিত একটি ধারণা ছিল যার নাম ম্যাটার্নাল ইমপ্রেশন। এ ধারণা অনুযায়ী গর্ভবতী মায়ের চিন্তা-ভাবনা ও আবেগ-অনুভূতি প্রভাব ফেলবে তার গর্ভের শিশুর উপর। অনেকের ধারণা ছিল হয়তো এই কারণে এমন বিরল ঘটনা ঘটেছে।

পরবর্তীতে একজন বিচক্ষণ সার্জন বাচ্চা খরগোশগুলোকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পান, সেগুলোর মলে ভুট্টার অস্তিত্ব রয়েছে। এ থেকে তিনি নিশ্চিত হয়ে যান, খরগোশগুলো নিশ্চিতরূপে মেরির গর্ভে বেড়ে ওঠেনি। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায় মেরি আরো অদ্ভূত সব বস্তু জন্ম দিয়েছেন যার মধ্যে বিড়ালের পা থেকে শুরু করে শূকরের মূত্রথলি ছিল। এরই মধ্যে উচ্চতর গবেষণার জন্য মেরিকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দুই মাস তাকে কঠোর পর্যবেক্ষণের ভেতরে রাখা হয়। অথচ এই সময়ের মধ্যে তাকে কোনো খরগোশ বা অন্য কিছু জন্ম দিতে দেখা যায়নি। সেখানেই বের হয়ে আসে মেরির খরগোশ জন্ম দেওয়ার বিষয়টি। জানা যায় মেরির শাশুড়ি এক কর্মীকে খরগোশ সরবরাহের জন্য বলেছিলেন। এরপর একে একে আরো অনেকেই দাবি করতে থাকে, তাদেরকেও মেরি বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে একই ধরনের অনুরোধ করা হয়েছিল।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক মাসের জেলও হয়েছিল মেরির। পরবর্তীতে এক ইতিহাসবিদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে মেরিকে সম্ভবত ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল এমন কাজ করতে। আর এ কাজটি করেছিলেন তার শাশুড়িসহ পরিবারের লোকজন। মূলত মেরির গর্ভপাতের কারণে তার ওপর ক্রোধের জেরে এমনটা করেছিলেন তার শাশুড়িসহ এর সাথে জড়িত নারীরা। তখনকার এই ঘটনা শুনে প্রথমে সবাই বেশ কৌতুকবোধ করলেও সেটির অন্তরালে এক নারীর চূড়ান্ত অসহায় অবস্থার কথা উঠে আসে।

মতামত দিন