আন্তর্জাতিক

গুয়ানতানামো বে কারাগার নিয়ে জাতিসংঘের নিন্দা

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

কিউবার কুখ্যাত গুয়ানতানামো বে কারাগার নিয়ে জোরালো নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞরা। তারা এই কারাগারটিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনের প্রতি দায়বদ্ধতায় একটি 'ক্ষত' হিসেবে মন্তব্য করেছেন। সোমবার (১০ জানুয়ারি) কারাগারটির ২০ বছর পূর্তিতে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের দেওয়া বিবৃতিতে গুয়ানতানামো বে কারাগার বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান ২০০১ সালে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ' অভিযান শুরুর পর কিউবায় গুয়ানতানামো বেতে অবস্থিত দেশটির সামরিক ঘাঁটিতে এই কারাগারটি তৈরি করা হয়। দুই দশক ধরে চলমান যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ'-এর সময়ে যেসব বিদেশি নাগরিক দেশটির সামরিক বাহিনীর হাতে ধরা পড়তেন তাদের এখানে আটক রাখা হতো। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নৌস্থাপনায় অবস্থিত এই কারাগারটিতে আফগানিস্তান থেকে ধরে আনা নাগরিকদের বন্দি করে রাখা হয়। এখানে সর্বোচ্চ ৭৮০ জন বন্দি ছিলেন। এই বন্দিদের বেশির ভাগকেই বিচার ছাড়া আটকে রাখা হয়েছিল।

এখনো কারাগারটিতে থাকা ৩৯ বন্দিদের ভেতর মাত্র ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়েছে। ২০০২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৯ বন্দির মৃত্যু ঘটেছে কারাগারটিতে। এদের দুজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে এবং বাকি সাতজন আত্মহত্যা করেছেন। মৃতদের কারও বিরুদ্ধেই কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই।

আরও বলা হয়, এই কারাগারটিতে ইচ্ছেমত বিচার ছাড়াই বন্দিদের নির্যাতন করা হয় যা যে কোনো সরকারের জন্যই অগ্রহণযোগ্য, বিশেষত যে সরকার মানবাধিকার রক্ষার কথা বলে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, কারাগারটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মর্মান্তিক সব ঘটনার চরম নিন্দার পরেও এখনো কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হননি এমন মানুষকে কারাগারে বন্দি করে রাখছে যুক্তরাষ্ট্র।

গুয়ানতানামো বে’তে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভয়ংকর নির্যাতন, মানবতাবিরোধী চরম নৃশংসতা চালানো হয় এবং মানুষের মৌলিক অধিকারও এতে ভয়াবহভাবে ক্ষুণ্ন হয়। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এটি করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা তাদের বিবৃতিতে আরও জানান, যেসব কয়েদিরা এখনো বন্দি হিসেবে আছেন তারা বয়স্ক হচ্ছেন তাদের স্বাস্থ্যেরও অবনতি ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৮৮ মিলিয়নের একটি ফান্ড চাওয়া হয়েছে তাদের পুনর্বাসনের জন্য। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবার জন্য যে পরিমাণ মেডিকেল সহায়তা দরকার সেটা গুয়ানতানামোতে নেই বলেও বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা কয়েদিদের নিরাপদে তাদের দেশে অথবা তৃতীয় বিশ্বের কোন নিরাপদ দেশে ফেরত পাঠাতে আহ্বান জানিয়েছেন এবং গুয়ানতানামো বন্ধের আওহান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য কয়েদিদের এমনসব দেশে পাঠাতে নিষেধ করা হয়েছে যেখানে গেলে তারা নিপীড়নের মুখোমুখি হতে পারে। এ ছাড়া বন্দিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও তোলেন তারা।  

২০০২ সালে বানানো এই কারাগারের মাত্র ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে আর মাত্র দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ২০০১ সালে বিমান ছিনতাই ও টুইন টাওয়ার হামলায় যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগ আছে তাদের বিচারই শুরু হয়নি।  

বিশেষজ্ঞরা বিচার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গড়িমসির ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানবাধিকার রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার চূড়ান্ত ব্যর্থতার কথা সামনে আনতে চাই। বিশেষজ্ঞরা বন্দিদের পক্ষে লড়াই করা উকিলদের প্রশংসা করেন।

মতামত দিন