অর্থনীতি

‘রমজানে বাড়বে না চালের দাম’

রমজান সামনে রেখে চালের দাম না বাড়ার নিশ্চয়তা দিলেন খাদ্য সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম। বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে সচিব এ নিশ্চয়তা দেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ওরকম অবস্থা দেখি তাহলে ওএমএস আরও বাড়াবো। খাদ্যের ব্যাপারে তো সরকারের কার্পণ্য নেই। খোলা বাজারে বিক্রিটা আরও বাড়াবো। যদি প্রয়োজন হয় ভোক্তার স্বার্থে সরকার চাল আমদানি করবে।’

‘তবে আমরা এখনই আমদানিতে যাচ্ছি না এই কারণে যে...কে বা কারা যেন প্রমাণ করতে চাচ্ছে এত খাদ্য উদ্বৃত্ত বলা হচ্ছে, স্বয়ংসম্পূর্ণ বলা হচ্ছে, তারপরও তো আমদানি চলে। ইউএসডিএ (ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাগ্রিকালচার) বলছে, আমাদের উৎপাদন ভালো, তারপর তারা বলছে আমদানিও করতে হবে। আমরা চাচ্ছি আমদানি না করে আমরা যদি স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারি, তাহলে আমরা এটা এস্টাবলিস্ট করতে পারবো, আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ।’

নাজমানারা খানুম বলেন, ‘২০ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত আছে। এরপরও মিলাররা আমার কাছে চাল বিক্রি করতে চাচ্ছে। তার মানে কী? মোটা চালের দাম আর বাড়বে না। এটা কমেই যাবে। ধান উঠলে তো আরও কমবে। কোনো দৈব-দুর্বিপাক না হলে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় বোরো চাল বাজারে চলে আসবে। ফলে তো ওরকম অবস্থা হওয়ার আশঙ্কা নেই। বিভিন্ন পর্যায়ে দাম বাড়ছে। আমি মনে করি এটা কন্ট্রোল হবে সাপ্লাই (সরবরাহ) বাড়ানোর মাধ্যমে।’

সচিব বলেন, ‘আমি যতদূর জানি, ত্রাণ মন্ত্রণালয় আরও কিছু প্যাকেজ হিসেবে রোজার মাসে দেবে, আগে থেকেই শুরু করবে। পরিবার প্রতি যেটা গত বছর প্রধানমন্ত্রী আড়াই হাজার টাকা করে দিয়েছিলেন ৩৫ লাখ পবিারকে। এবার এক কোটি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। কাজেই সরকার আছে, কোনোভাবেই যেন নিম্ন আয়ের বা যারা ভালনারেবল তাদের যাতে কোনো কষ্ট না হয়। আপনারা, আমরা যারা আছি তাদের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করছে সরকার।’

করোনার কারণে ২০২০ সাল থেকে চালের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে মোটা চালের দাম বাড়েনি বরং আরও কমেছে। একটু বাড়ার টেন্ডেন্সি ছিল। আমাদের ৭০৫টি ওএমএস কেন্দ্র ছিল, এখন আমরা দেশব্যাপী দুই হাজারের বেশি কেন্দ্রে ওএমএস চালাচ্ছি। মাঝখানে আমরা পৌর এলাকায় ওএমএস বন্ধ করে দিয়েছিলাম। সর্বকালের সর্বোচ্চ ওএমএস সেন্টার এখন আছে। তারপরও দেখছি চালের দাম কমছে না।’

গত বছরের এই সময়ের সঙ্গে চালের দামের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে নাজমানারা খানুম বলেন, ‘মোটা চালের দাম গত বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি যা ছিল, এ বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি সেটা থেকে এক টাকা কম। মাঝারি চালের দাম দুই টাকা কমেছে। আর নাজিরশাইল যেটা ভদ্র লোকেরা খায়, সেটার দাম গত বছরের তুলনায় সাড়ে তিন টাকা বেড়েছে। মিনিকেট যেটা আমরা মধ্যম আয়ের লোকেরাও খাই, সেটার দাম এক টাকা কমেছে। প্যাকেট আটার দাম গত বছরের তুলনায় আট টাকা বেড়েছে। খোলা আটার দাম সাড়ে তিন টাকা বেড়েছে।’

মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন জানিয়ে নাজমানারা বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি চাল যদি কেউ অবৈধভাবে রেখে থাকে, সেটা যাতে বেরিয়ে আসে। আমরা কিন্তু সেই রকম কোনো নমুনা পাচ্ছি না। এটা আমরা সকল পর্যায়ের সকলকে সেনসেটাইজ করেছি, আমাদের যারা স্টেকহোল্ডার আছেন। বিশেষ করে স্থানীয় প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়- সবাই মিলে চেষ্টা করে আমরা কোথাও এভাবে পাচ্ছি না যে, অতিরিক্ত মজুত করে কেউ দুর্ভোগ তৈরি করছে।’

সরকারিভাবে সাত লাখ ২০ হাজার টন আমন ধান-চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘গতকাল (১৫ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত ছয় লাখ ৩০ হাজার টন কেনা হয়ে গেছে। বাড়তি টার্গেট দিয়েও আমি কিন্তু অর্জন করতে পারছি। এর অর্থ হলো যে মোটাচাল আমি কিনি তার দাম বাড়েনি। আমি স্বীকার করবো যে, চিকন চালের দাম বেড়েছে।’

নাজমানারা আরও বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান ও সবার সঙ্গে কথা বলে আমরা যেটা দেখেছি- সেটা হলো চিকন চালের ক্রেতা বা ভোক্তা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। আমরা সবাই এখন চিকন চাল খাচ্ছি। আমরা মোটা চাল খাচ্ছি। আমরা যারা চাল কিনি তারা চিন্তা করি দু-টাকা অন্যদিকে বাঁচিয়ে আমি যেন চালটা চিকন খেতে পারি। চিকন চাল উৎপাদনের তুলনায় ভোক্তা কিন্তু বেশি। কিন্তু অ্যাকিউরেটলি যদি আপনি ডাটা চান, চিকন চালের চাহিদা কত, উৎপাতন কত? সেটা কিন্তু আমি বলতে পারবো না। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে সেটা চেয়েছি, তারা দিতে পারেনি।’

বেসরকারিভাবে আমদানি করা হলে চিকন চালের দাম কিছুটা কমবে বলেও মনে করেন খাদ্য সচিব। তিনি বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয় পর্যায়ে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত আছে। যদি দেখি দাম আরও বাড়ছে আমরা অবশ্যই আমদানি করবো। গত বছর শুল্ক সাড়ে ৬২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করেছে। এ বছর আমদানির প্রয়োজন হলে শুল্ক আরও কমাতে হবে। তা না হলে যারা ভারত থেকে আমদানি করবে তাদের পোষাবে না।’

মতামত দিন