বাংলাদেশ

শরীফ উদ্দিনকে অপসারণের আদেশ বাতিলের দাবি দুদকের কর্মকর্তাদের

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণের আদেশ বাতিলের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন দুদকের কর্মকর্তারা। একই দাবিতে তারা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রথমে দুদক সচিবকে দাবি-দাওয়া সংবলিত স্মারকলিপি দেন তারা। পরে দুপুর ১২টার পর দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘কোনোরূপ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এবং তিনি কোনোরূপ অপরাধ করেছেন কি না, তা অবহিত না করে ১৬ ফেব্রুয়ারি ৫৪(২) বিধি প্রয়োগের মাধ্যমে উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়, যা অসাংবিধানিক, বেআইনি ও সাধারণ আইনের আওতায় মানবাধিকার পরিপন্থি। আদালতে বিচারাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন কর্মচারী (চাকরি) বিধিমালা, ২০০৮-এর বিতর্কিত ৫৪(২) ধারা মোতাবেক শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণের আদেশ বাতিলের দাবি জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মচারীরা।’

‘দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মচারী হিসেবে আমরা দুদকের মিশন-ভিশন বাস্তবায়নের জন্য দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করি, যার নজির রয়েছে দুদক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন ও তার পরিপ্রেক্ষিতে বিচার চলমানও রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের চাকরি বিধিমালা (কর্মচারী)-২০০৮-এর ৫৪(২) বিধিতে বলা হয়েছে, এ বিধিমালায় ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ না দর্শাইয়া কোনো কর্মচারীকে ৯০ দিনের নোটিশ প্রদান করিয়া অথবা ৯০ দিনের বেতন পরিশোধ করিয়া তাহাকে চাকরি হইতে অপসারণ করিতে পারবে।’

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৫(২) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, ‘অনুরূপ পদে (প্রজাতন্ত্রের অসামরিক পদে) নিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে তাহার সম্পর্কে প্রস্তাবিত কোনো ব্যবস্থাগ্রহণের বিরুদ্ধে কারণ দর্শাইবার যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দান না করা পর্যন্ত তাহাকে বরখাস্ত, অপসারিত বা পদাবনমিত করা যাইবে না।’

‘দুর্নীতি দমন কমিশন কর্মচারী (চাকরি) বিধিমালা, ২০০৮-এর ৫৪ বিধি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং-১৪২৪/২০১১ দায়ের করা হলে ২০১১ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগ দুদক চাকরি বিধিমালার ৫৪ বিধিকে অসাংবিধানিক হিসেবে ঘোষণা করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে আদালত ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর আপিল খারিজ করে হাইকোর্ট বিভাগের ৫৪ বিধি অসাংবিধানিক ঘোষণাটি বহাল রাখেন। অর্থাৎ ৫৪ বিধি অনুযায়ী দুদকের কোনো কর্মচারীকে সংবিধানের ২৭, ২৯, ২১ ও ৪০ অনুচ্ছেদবলে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের ভিত্তিতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ হিসেবে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে কাউকে ৯০ দিনের বেতন দিয়ে স্থায়ী রাজস্ব খাতভুক্ত চাকরি থেকে অপসারণের অবকাশ ছিল না। কিন্তু কমিশন আপিল বিভাগের ওই সিদ্ধান্তের বিপরীতে ৩২/২০১৭ সিভিল রিভিশন করলে একতরফা (রিটকারীর প্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে) শুনানি করে ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করেন এবং বিষয়টি উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে বিচারাধীন। দুর্নীতি দমন কমিশন চাকরি বিধিমালা ২০০৮-এর ৫৪ বিধির কার্যকারিতার বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় দুদকে ২০১৪ সালে যোগদান করা একজন কর্মকর্তাকে কোনোরূপ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এবং তিনি কোনোরূপ অপরাধ করেছেন কি না, সে বিষয়টি তাকে অবহিত না করে ১৬ ফেব্রুয়ারি ৫৪(২) বিধি প্রয়োগের মাধ্যমে উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়, যা অসাংবিধানিক, বেআইনি ও সাধারণ আইনের আওতায় মানবাধিকার পরিপন্থি।’

মতামত দিন