অর্থনীতি

ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও ৯০ পয়সা কমেছে

ডলারের বিপরীতে টাকার দাম আরেক দফা কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ৯০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। ফলে প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য বেড়ে হয়েছে ৮৯ টাকা ৯০ পয়সা। এর আগে সর্বশেষ গত সোমবার ডলারের বিপরীতে টাকার মান ১ টাকা ১০ পয়সা কমানো হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমানোর বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘৮৯ টাকা ৯০ পয়সা দরে আজ ডলার বিক্রি করা হয়েছে। আগে যা ছিল ৮৯ টাকা।’

বাংলাদেশ ব্যাংক আজ বৃহস্পতিবার ৮৯ টাকা ৯০ পয়সায় রাষ্ট্রমালিকানাধীন ও বেসরকারি খাতের চারটি ব্যাংকের কাছে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে। সরকারি আমদানি বিল মেটাতে ব্যাংকগুলোর কাছে এ ডলার বিক্রি করা হয়।

টাকার মান আরেক দফা অবমূল্যায়নের ফলে আমদানির খরচ আরও বাড়বে। অন্যদিকে রপ্তানিকারকেরা লাভবান হবেন। সাধারণত রপ্তানিকারকদের সুবিধা দিতেই স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন করা হয়। তবে এখন বাংলাদেশকে এই পথে যেতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে।

আমদানি পণ্যের দাম ও জাহাজভাড়া বেড়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। রপ্তানি ও প্রবাসী আয় দিয়ে সেই খরচ মেটানো যাচ্ছে না। এতে ডলারের সংকট তৈরি হয়েছে। সংকট সামলাতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতেই বেড়ে গেছে ডলারের দাম।

এদিকে, প্রবাসী আয় আনতে ডলারের দামের সীমা তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হয়, বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে ব্যাংকগুলো নিজেরাই ডলারের দাম নির্ধারণ করতে পারবে। তবে হঠাৎ যেন ডলারের দাম বেশি বাড়িয়ে না ফেলা হয়, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। পাশাপাশি বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো যাতে দাম বেশি বাড়াতে না পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে।

ডলারের দামের সীমা তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সিরাজুল ইসলাম আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘ব্যাংকের মাধ্যমে তথা বৈধ পথে প্রবাসী আয় কমে যাচ্ছে। এ জন্য প্রবাসী আয় আনার ক্ষেত্রে ডলারের কোনো নির্দিষ্ট দাম থাকছে না। ব্যাংকগুলো বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে ও চাহিদা বিবেচনায় ডলারের দাম ঠিক করবে। আজ থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।’


মতামত দিন