বাংলাদেশ

কেটিএস গার্মেন্টস থেকে বিএম ডিপো, এবার কি আলোর মুখ দেখবে পূর্ণাঙ্গ বার্ন হাসপাতাল

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি আগেও হয়েছে। সংকট এসেছে। সংকট মোকাবিলা করেছে প্রাণের বিনিময়ে। চিকিৎসক নার্সদের নিরলস চেষ্টা ছিল। কিন্তু হাসপাতালের ক্ষমতা সুযোগ-সুবিধা ছিল না অতটা। তাই ২০০৬ সালে চট্টগ্রামের কেটিএস অ্যাপারেলসে অগ্নিকাণ্ডে ৬৫ শ্রমিক মারা গিয়েছিল।

পোড়া রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার মতো কোনো ইউনিট তখনো গড়ে ওঠেনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এর আগেও এ রকম ছোট বড় অগ্নি দুর্ঘটনা চট্টগ্রামে বহুবার ঘটেছে। প্রতিবারই একটি পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিটের জন্য হাপিত্যেশ করে চিকিৎসক ও সেবাগ্রহণকারীরা। ২০০৬ সালেও এ রকম আক্ষেপের জন্ম দিয়েছিল।

ওই আক্ষেপ কিছুটা ঘুচেছিল ২০১২ সালে একটি ২৬ শয্যার বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের যাত্রার মধ্য দিয়ে। তার আগে সার্জারি বিভাগে এক কোনায় পোড়া রোগীদের এর জন্য কেবল কয়েকটি শয্যা বরাদ্দ ছিল।

১০ বছর বয়সী স্বতন্ত্র বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটটি সাধ্যমতো সেবা দিয়ে আসছে। কিন্তু রোগী থাকে প্রায় সব সময় শয্যার দ্বিগুণ। আর জাহাজ ভাঙা কারখানার দুর্ঘটনা কিংবা কোনো কারখানায় আগুন লাগলে সংকট স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শয্যা সংকটের পাশাপাশি এই বিভাগটির বড় সমস্যা নিজস্ব নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) না থাকা। যা পোড়া রোগীদের জন্য খুবই জরুরি বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী অধ্যাপক এস খালেদ বললেন, ‘আমাদের ইউনিটে সংকটাপন্ন রোগী রাখতে পারি না। আইসিইউ দরকার হলে সমস্যায় পড়ে যাই। হাসপাতালের জেনারেল আইসিইউ সব সময় ব্যস্ত থাকে। তাই অনেক রোগী ঢাকায় চলে যায়। কিন্তু যাত্রাপথের এই সময়টা রোগীদের জন্য খুবই কঠিন।’

এই ইউনিটের পুরোনো চিকিৎসকেরাও মনে করতে পারেন কেটিএস দুর্ঘটনার সময়কার পরিস্থিতির কথা। সংকটকালের কথা তাঁদের মনে গেঁথে রয়েছে। এখন পরিস্থিতি তখনকার চেয়ে ভালো হলেও সংকট কাটেনি। তা আরেকবার প্রমাণ হলো সীতাকুণ্ডের বি এম ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনার পর।










মতামত দিন