খেলাধুলা

চল্লিশেও চমকে দিচ্ছেন অ্যান্ডারসনচল্লিশেও চমকে দিচ্ছেন অ্যান্ডারসন

জীবনের কাটা চল্লিশ ছুঁয়েছে। সমবয়সীরা যখন ব্যাট-বল তুলে রেখে নতুন পেশায় নিযুক্ত, জেমস অ্যান্ডারসন তখন নতুন মাইলফলক পাড়ি দিচ্ছেন। সেটাও আবার ইংলিশ বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব কাঁধে। ১৯ বছরের পথচলায় প্রতিনিয়ত মাঠে নেমেছেন আর আর নতুন কোনো বীরত্বগাঁথা রচনা করে চলেছেন অ্যান্ডারসন।

২০০৩ সালে লর্ডসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেকে সুইং বোলিংয়ের অপূর্ব প্রদর্শনীতে চমকে দিয়েছিলেন ক্রিকেট বিশ্বকে। এখনো প্রতিনিয়ত তাঁর সেই চমক চলছে ক্রিকেটের বাইশ গজের মঞ্চে। প্রথম ইংরেজ বোলার হিসাবে টেস্টে ৪০০, ৫০০ এবং ৬০০ উইকেট নেওয়ার অনন্য কীর্তি শুধু তাঁরই। আর গতকাল নটিংহামে টম লাথামের স্টাম্প উড়িয়ে পা রেখেছেন ৬৫০ উইকেটের মাইলফলকে। প্রথম পেসার হিসাবে তিনিই প্রথম ছুঁলেন এই চূঁড়া।

৬০০ উইকেটের মাইলফলক ছোঁয়ার অস্ট্রেলীয় কিংবদন্তি গ্লেন ম্যাকগ্রা ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন,‘ ব্যাটিংয়ের শচীন টেন্ডুলকারের মতো বোলিংয়ে উদাহরণ হয়ে থাকবে জিমি। ম্যাচ বা রানের সংখ্যায় যেমন কেউ শচীনকে ধরতে পারবে না তেমনি জিমিরও নাগাল পাবে না কেউ। ’

জেমস অ্যান্ডারসন ভাঙার আগে টেস্টে পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটা ছিল কিন্তু এই ম্যাকগ্রারই। আক্ষরিক অর্থে অ্যান্ডারসন এমন উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন যে, অদূর ভবিষ্যতে দূর থেকে তাঁকে দেখেই হয়ত ক্যারিয়ার শেষ করতে হবে পেসারদের।   

গতি নয়, অ্যান্ডারসনের অস্ত্র সুইং। এই ইংরেজ পেসারের সুইংয়ের একজন ভক্ত ম্যাকগ্রা নিজেও, ‘জিমির মতো স্কিল আমার ছিল না। ও যখন দুই দিকে বল সুইং করায় শুধু তাকিয়ে উপভোগ করতে হয়। তখন ওর চেয়ে ভালো বোলার আর কেউ নেই। ’ পেসাররা যেখানে গতির ঝড় তুলে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের বুকে কাঁপন ধরাতে ভালোবাসেন সেখানেও ব্যতিক্রম অ্যান্ডারসন। সুইংয়ের মারণাস্ত্রে ঘায়েল করছেন তিনি বিশ্বের সেরা সেরা ব্যাটারদের। শচীন টেন্ডুলকারের মত ব্যাটারও অ্যান্ডারসনের বিপক্ষে ১৪ বারের দেখায় আউট হয়েছেন ৯ বার। অ্যান্ডারসনের প্রশংসায় জিওফ বয়কট বলেছিলেন,‘ অ্যান্ডারসন ঈশ্বর প্রদত্ত প্রতিভা। এমনকি একটা কমলা দিয়েও সুইং করাতে পারে। ’

এই মধ্যবয়সেও লাল বলে যে ভেল্কি দেখাচ্ছেন অ্যান্ডারসন সত্যিই তা বিস্ময় জাগানিয়া। চলতি সিরিজে লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসেও নিজের জাত চিনিয়েছিলেন তিনি। প্রথম চার ওভারে কোনো রান না দিয়েই ফিরিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের দুই উদ্বোধনী ব্যাটারকে। বর্ণীল ক্যারিয়ারে এই কীর্তি গড়েন তিনি ২৭ তমবার। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ম্যাকগ্রা তাঁর ক্যারিয়ারে ইনিংসের দুই ওপেনারকেই আউট করেছিরেন ২৬বার। রান উত্সবের এই নটিংহাম টেস্টেও নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৬২ রানে ৩ শিকার অ্যান্ডারসনের। যেখানে ইনিংসের বাকী ৭ উইকেট নিতে তাঁর অন্য সতীর্থরা খরচা করেছে ৪৯১ রান।  

লাল ডিউক বলের রাজা বলা হয় তাঁকে। লাল বলকে নিয়ে যা কিছু করতে পারার ক্ষমতাই তাঁকে বানিয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। কুলীন টেস্ট ক্রিকেটের পেসারকুলের সর্বোচ্চ শিকারি জেমস অ্যান্ডারসন। টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তাঁর সামনে আছেন মাত্র দুজন-শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরণ (৮০০টি) আর অস্ট্রেলিয়ার প্রয়াত কিংবদন্তি শেন ওয়ার্ন (৭০৮টি)। আর কিছুদিন খেললে পেছনে ফেলবেন হয়তো ওয়ার্নকেও। এ জন্য তো চাই আর মাত্র ৫৯টি উইকেট। এই বয়সেও এতটাই দাপুটে তিনি যে, ওয়ার্নের এক ধাপ পিছিয়ে পড়া স্রেফ সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হয়।

মতামত দিন