আন্তর্জাতিক

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, বিচার দাবি

বরিশালের গৌরনদী পৌর এলাকায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার রাতে নিহত গৃহবধূর বাবা শিপন সরদার বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড কলেজ গেটে হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনেরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আড়াই বছর আগে গৌরনদী পৌর এলাকার বড় কসবা গ্রামের শিপন সরদারের মেয়ে স্বর্ণা আক্তারের (২০) সঙ্গে একই গ্রামের জালাল খানের ছেলে মাসুম খানের (২৫) বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর থেকে স্বর্ণাকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে এক লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন মাসুম। কিন্তু স্বর্ণা টাকা আনতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয়।

লিখিত অভিযোগে স্বর্ণার বাবা জানান, সম্প্রতি যৌতুকের টাকার জন্য তাঁর মেয়েকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের দেন মাসুম। পরে সালিস ডেকে মীমাংসা করে পুনরায় মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠান। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে জামাতা মাসুম আবার টাকার জন্য মেয়েকে মারধর করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা এনে না দিলে হত্যার হুমকি দেন। মেয়ে বিষয়টি তাঁকে ফোনে জানান। টাকা না পেয়ে গত শনিবার রাতে মেয়েকে ঘরের মধ্যে আটকে আবার মারধর করেন মাসুম। একপর্যায়ে স্বর্ণা অজ্ঞান হয়ে যান। তখন মাসুম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা স্বর্ণাকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তখন মাসুম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে লাশ ফেলে পালিয়ে যান।

অভিযোগের বিষয়ে স্বর্ণার শাশুড়ি রুনু বেগম প্রথম আলোকে বলেন, বিয়ের পর মাসুমের সঙ্গে ঝগড়ার কারণে রাগ করে স্বর্ণা গত রোববার সকালে আত্মহত্যা করেছেন।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন বলেন, এই ঘটনায় নিহতের বাবা শিপন সরদার বাদী জামাতা মাসুম খানকে প্রধান আসামি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই গৃহবধূর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড কলেজ গেটে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনেরা। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থানীয় ওহাব সরদার, মামুন হাসান, মিলন সরদার, দোলন হোসেন, রিয়াজ উদ্দিন ব্যাপারী, নারীনেত্রী শিরিন আক্তার, আঁখি আক্তার, নিহতের বাবা শিপন সরদার, মা সোনিয়া বেগম প্রমুখ। বক্তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মতামত দিন