বাংলাদেশ

ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা আরও ৯ রোহিঙ্গা সুবর্ণচরে আটক

নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে পালিয়ে আসা নারী, শিশুসহ আরও ৯ রোহিঙ্গাকে সুবর্ণচর উপজেলায় আটক করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের থানারহাট এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। আজ রোববার সকালে তাঁদের সুবর্ণচরের চরজব্বর থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
চরজব্বর থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক রোহিঙ্গারা হলেন ভাসানচর আশ্রয়ণের ৮১ নম্বর ক্লাস্টারের মো. সালামের ছেলে নুর কাশেম (২০), ৭৪ নম্বর ক্লাস্টারের খলিল আহম্মদের ছেলে মো. ইউনুছ (২৫), ৫০ নম্বর ক্লাস্টারের আমির হোসেনের ছেলে হোসেন জোহর (২৭), ৭৩ নম্বর ক্লাস্টারের নজিব উল্যাহর ছেলে করিম উল্যাহ (২২), ৮৬ নম্বর ক্লাস্টারের সফিউল কাদেরের মেয়ে সুকতারা বেগম (১৯), ৮১ নম্বর ক্লাস্টারের নুর আলমের মেয়ে রামুজা বেগম (১৮), ৭৩ নম্বর ক্লাস্টারের খাইরুল আমিনের স্ত্রী পারভীন আক্তার (২৮), তাঁর দুই ছেলে–মেয়ে জন্নাত আক্তার (৭) ও নুর ইসলাম (৪)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত একটার দিকে সুবর্ণচরের থানারহাট এলাকায় অপরিচিত বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ দুই শিশুসহ ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় তাঁদের দেখে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা নিজেরা রোহিঙ্গা বলে স্বীকার করেন এবং দালালের মাধ্যমে ভাসানচর থেকে নদীপথে নৌকাযোগে সুবর্ণচরের মেঘনা নদীর তীরে উঠেছেন বলে জানান। সেখান থেকে তাঁদের কক্সবাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। আটকের পর স্থানীয় বাসিন্দারা থানা-পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে সকালে পুলিশ গিয়ে তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবপ্রিয় দাশ প্রথম আলোকে বলেন, থানারহাট এলাকার বাসিন্দারা গতকাল রাতে ওই রোহিঙ্গাদের আটক করে থানায় খবর দেন। পরে আজ সকালে তাঁদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি জানান, আটক রোহিঙ্গাদের পুনরায় ভাসানচর ফেরত পাঠানো হবে।

এর আগে গতকাল রাত আটটার দিকে কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নবগ্রামের নিমতলা বাজার এলাকা থেকে ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা দ্বীন মোহাম্মদ (৫৫) নামের আরেক রোহিঙ্গাকে আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাঁকে কবিরহাট থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ নিয়ে এক রাতের মধ্যে ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা ১০ রোহিঙ্গাকে আটক করা হলো।


মতামত দিন