খেলাধুলা

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের চেয়েও এবারের উইকেট কঠিন মনে হচ্ছে সাকিবের

প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো সিরিজ শুরুর আগে বলেছিলেন, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অন্তত ‘ভালো উইকেট’ আশা করেন তিনি মিরপুরে। যেখানে ১৫০-১৬০ রান ভালো স্কোর। তবে এখনকার আবহাওয়ার কথা মনে করিয়ে বলেছিলেন, সেটা বানানো সহজ হবে না।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর নিউজিল্যান্ড সিরিজের উইকেট নিয়েও তাই আলোচনা ছিল আগে থেকেই। নিউজিল্যান্ড এখানে প্রথম ম্যাচেই আটকে গেল ৬০ রানে, সে রান টপকাতেও বাংলাদেশকে খেলতে হলো ১৫ ওভার। সাকিব আল হাসান বলছেন, প্রথম ম্যাচের উইকেট অস্ট্রেলিয়া সিরিজের চেয়েও কঠিন মনে হয়েছে তাঁর কাছে।

শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের এ উইকেট স্বাভাবিকভাবেই ছিল মন্থর। বল সেভাবে ব্যাটে আসছিলই না। আবার বাউন্সও ছিল নিচু। সব মিলিয়ে সাকিব উইকেটকে দেখছেন বেশ কঠিন হিসেবেই।


‘আমার মনে হয়, অস্ট্রেলিয়া সিরিজের চেয়েও কঠিন ছিল উইকেটটা। তবে এরপরও আমরা ভালো জায়গায় বোলিং করতে পেরেছি। আর যেহেতু নিউজিল্যান্ডের এমন কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা নেই, তাই তারা ধুঁকেছে বলে আমার মনে হয়’ - সাকিবের বিশ্লেষণ।

নিজেদের ব্যাটিং নিয়ে অবশ্য এখনো সন্তুষ্ট নন সাকিব। রান তাড়ায় বাংলাদেশ আজ শুরুতেই হারিয়ে ফেলেছিল দুই উইকেট। সাকিব বলছেন, এ উইকেটে ইতিবাচক থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ সবচেয়ে বেশি।

‘এখানে আসলে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, যত বেশি সিঙ্গেল নেওয়া যায়। রানিং বিটুইন দ্য উইকেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বাউন্ডারি মারা খুবই কঠিন। তাই যতটা সম্ভব ইতিবাচক মনোভাবে থাকা যায়। সিঙ্গেল বা ডাবলস নেওয়া সহজ হলে চাপটা কমে যায়। এরপর থিতু হওয়া গেলে বাজে বলের সুবিধা আদায় করা যায়। এভাবে রান করা হয়তো সম্ভব এখানে’ - সাকিবের কথা।

তবে যেটাই বলেন, ব্যাটসম্যানদের সময়টা এ উইকেটে সহজ নয় মোটেও, সাকিব মনে করিয়ে দিলেন সেটা, ‘তবে যেটাই বলি, ব্যাটসম্যানদের জন্য খুবই কঠিন একটা কন্ডিশন, ব্যাটসম্যানরা খুবই কঠিন পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে এই উইকেটে খেলতে।’

এমন উইকেটে খেলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ঝামেলায় পড়বে কি না, এমন আলোচনাও আছে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের সময় থেকেই। তবে সাকিব আবারও বলছেন, জয়ের আত্মবিশ্বাসের কথা, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, আমরা ম্যাচ জিতেছি বিশ্বকাপের আগে। আমার মনে আছে, আমরা যখন ২০০৭ সালে ভালো করেছিলাম বিশ্বকাপে, তার আগে অনেকগুলো ম্যাচ জিতেছিলাম টানা, বিশেষ করে ওয়ানডেতে। সেটা সহায়তা করেছিল আমাদের। আমার মনে হয়, এই জয়গুলো দলের আত্মবিশ্বাস সেখানে নিয়ে যাবে, যেখানে আমরা বিশ্বকাপে গিয়ে ভালো করতে পারি।’


অন্যদিকে মাহমুদউল্লাহ বলছেন, সিরিজের প্রথম ম্যাচ জয় সব সময় গুরুত্বপূর্ণ, ‘বেশ ভালো লাগছে। ওদের বিপক্ষে বেশ কিছু ম্যাচ হেরেছি আমরা। টানা হারের পরে জয় তুলে নিতে পেরে ভালো লাগছে। সিরিজের প্রথম ম্যাচটি সব সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়, বিশেষ করে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে। আমাদের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।’

টস জিতলে তিনিও আগে ব্যাটিং করতেন বলেই জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আমিও আগে ব্যাটিং করতে চেয়েছিলাম। এই উইকেট সব সময়ই বেশ কঠিন। এখানে ভালো করতে হলে শুরু থেকেই রান তুলতে হবে কিংবা উইকেট শিকার করতে হবে। তাই বোলিং করতে নেমেও আমাদের লক্ষ্য ছিল দ্রুত উইকেট তুলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা। আপনি যেটিই আগে করেন না কেন, সেটিই ভালোভাবে করতে হবে।’
পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে খেলার জন্য আবারও বোলারদের কৃতিত্ব দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ।

মতামত দিন