বাংলাদেশ

রাজধানীতে নকল ওষুধসহ আটক ৩

‌নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ফার্মেসি ও গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ জব্দসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির যুগ্ম-কমিশনার (দক্ষিণ) মাহবুব আলম।

আটকরা হলেন- মেডিসিন ওয়ার্ল্ড ফার্মেসির ফয়সাল আহমেদ (৩২), লোকনাথ ড্রাগের সুমন চন্দ্র মল্লিক (২৭) ও রাফসান ফার্মেসির মো. লিটন গাজী (৩২)।

মাহবুব আলম বলেন, মিটফোর্ড এলাকায় তারা পাইকারি ওষুধের ব্যবসা করেন। সেখান থেকে তারা সারাদেশে ভেজাল ওষুধ সাপ্লাই করে থাকেন। যারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত তাদেরও তালিকা করছি। আমাদের তালিকা দিন দিন বাড়ছে। সরবরাহকারী বা উৎপাদনকারী সবাইকে আমরা তালিকাবদ্ধ করছি। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, যারা নকল ওষুধ বিক্রি ও উৎপাদন করছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। সামনে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবো। ইউনানি ও হোমিওপ্যাথির লাইসেন্স নিয়ে যারা অবৈধ ওষুধ তৈরি করছে তাদের তালিকা আমরা তৈরি করেছি। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাইমুল গোলদার বলেন, অভিযানে জব্দ ওষুধের মধ্যে বেশিরভাগ হচ্ছে নিবন্ধনবিহীন, নিষিদ্ধ ও ভেজাল ওষুধ। এর মাঝে একটি ওষুধ হচ্ছে পেড়িএকটিন, যা অনেক আগেই ব্যান করা হয়েছে।

মানুষ কীভাবে ভেজাল ওষুধ চিনতে পারবে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা অভিযান পরিচালনা করছি কিন্তু সাধারণ মানুষ যে বিষয়টি করতে পারে তা হলো নিবন্ধন করা সব ওষুধের তালিকা আমাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে, সেখান থেকে জনগণ এ বিষয়ে জানতে পারে। আর জনগণকে অবশ্যই ইনভয়েস নম্বর দেখে ফার্মেসি থেকে ওষুধ ক্রয় করা উচিত। ইনভয়েস নম্বর হলো ওষুধের সার্টিফিকেট। যে কোম্পানি থেকে ওষুধ ক্রয় করা হয় সে কোম্পানির ইনভয়েস ওষুধ ফার্মেসিকে সংরক্ষণ করতে হয়। তাহলে ফার্মেসিগুলো চাপের মুখে থাকবে। এতে নকল ওষুধের চাহিদা তারা দেবে না।

গত এক বছরে ওষুধ প্রশাসন ৪৭টি ওষুধ উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করেছে। আর মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করেছে সাত কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা হয়েছে ৯২টি।

মতামত দিন