শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১ | ০৩:০০:২৮

মোহনা সংবাদ ২৪ ডট কম

আসছে ৬ লাখ ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকার বাজেট

It Admin Mohona, Mohona Songbad | আপডেট: ১৫:২৩, এপ্রিল ২৬, ২০২১

করোনার প্রভাবে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ধরে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। নতুন অর্থবছরে ৬ লাখ ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেই বাজেটের কাজ শুরু হয়েছে। তবে আশার আলো হচ্ছে রাজস্ব আহরণে। করোনার পর চাঙ্গা হয়ে উঠবে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি-এমন ধারণা নিয়ে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৭৮ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন বাজেটের (প্রস্তাবিত) আয়-ব্যয়ের হিসাবে ঘাটতি দাঁড়াবে ২ লাখ ১৩ হাজার ৮০২ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।
করোনার কারণে চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধিও কাটছাঁট করা হয়েছে। শুরুতে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হার ধরা হলেও সম্প্রতি তা কমিয়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশের ঘরে আনা হয়। তবে চলতি বছরের ন্যায় এবারও মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, খাদ্য উৎপাদন ভালো হবে। জ্বালানি তেলের মূল্য বিশ্ববাজারে কম থাকবে। করোনার কারণে জ্বালানি তেলের মূল্য খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। এর সুফল দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এসে পড়বে। যদিও বর্তমানে বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য অস্বাভাবিক বেড়ে আছে।
আসন্ন বাজেটে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় অগ্রাধিকার খাতগুলোয় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করাই হবে প্রধান অগ্রাধিকার। এজন্য স্বাস্থ্য, কৃষি, সমাজকল্যাণ, খাদ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
কোভিড-১৯ মোকাবিলায় আগামী বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থাকছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আকারও বাড়ছে। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। এটি চলতি বাজেটের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। আর বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বৈঠকে। এজন্য এসএমই খাতে আরও অর্থায়ন করা হবে। এ ছাড়া আগামী বছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। এটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী বাজেটে জিডিপির আকার ৭ দশমিক ২ শতাংশ ধরে এগোচ্ছে। এটি টাকার অঙ্কে ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। এ জিডিপির ১৭ শতাংশের উপর ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয় নতুন বাজেটে। করোনার কারণে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার পুরোপুরি হয়নি। ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন খাত, পরিবহণ ও হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায় এখনো মন্দা চলছে। যে কারণে জিডিপির প্রবৃদ্ধি খুব বেশি হবে না-এমন হিসাব থেকে আগামী বাজেটে এ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়। চলতি অর্থবছরের শুরুতে ৮ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হয়। পরে সেটি সংশোধন করে ৬ দশমিক ১ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।
দেশের অর্থনীতির সার্বিক সূচকের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে প্রতি ৩ মাস অন্তর অর্থনৈতিক কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের অগ্রগতি নিয়ে রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ে জুমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ওই বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, অর্থ সচিব, পরিকল্পনা সচিবসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ওই বৈঠকে তুলে ধরা হয় চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন অগ্রগতি। পাশাপাশি একই বৈঠকে রূপরেখা ঠিক করা হয় ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের। আগামী অর্থবছরের বাজেটের প্রস্তাবিত আকার বছরে রাজস্ব খাতে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজস্ব খাতে মোট আদায়ের হার জিডিপির প্রায় ১১ দশমিক ২ শতাংশ ধরে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৭৮ কোটি টাকা। এটি মোট জিডিপির ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। 
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নতুন বছরে রাজস্ব আয় আরও কীভাবে বাড়ানো যায় এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ জন্য আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কারণ এ বছর আমদানি ও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় এ খাতে কাস্টমস রাজস্ব অনেক কমে গেছে। আগামীতে উভয় খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নাধীন। এসব খাতে বড় ধরনের বরাদ্দ রাখা হচ্ছে প্রতি বছর। সে ধারাবাহিকতায় আগামীতে বড় ধরনের বরাদ্দ থাকবে। তবে সরকারের দ্বিতীয় বছরে এডিপিতে বড় ধরনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে না। ফলে উন্নয়ন খাতে সরকারি বিনিয়োগ অর্থাৎ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) নতুন বছরে বরাদ্দের আকার দাঁড়াবে ২ লাখ ২৫ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। এটি চলতি এডিপির তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। চলতি বছরে এডিপিতে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। তবে চলতি অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নে এখনও পর্যন্ত অনেকটা শ্লথগতি বিরাজ করছে। করোনার কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত ঘটেছে। 
অর্থ বিভাগের হিসাবে এবারও ঘাটতি বাজেট ৫ শতাংশের উপরে থাকছে। বাজেট ঘাটতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ রেখে হিসাব মেলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।



অ্যাড বিভাগ

শিরোনাম »
আবু ত্ব-হার পক্ষে হাইকোর্টে লড়বেন ব্যারিস্টার সুমন এখন সবার পায়ে জুতা বাণিজ্যমন্ত্রী দুর্নীতিতে জড়িত মন্ত্রী এমপি ব্যবসায়ী আমলার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর আত্মঘাতী গোলে জার্মানির সর্বনাশ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে সরাসরি খেলবে বাংলাদেশ সাব্বিরের মতো এসব করার রেকর্ড আমার নেই যদি কেউ কাইল্যা বলে দোষ কি আমার লকডাউন আরও বাড়ল পরীমনির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন নাসির-অমি ৫৫ হাজার ভুয়া ভোটার: নির্বাচন কর্মকর্তাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা শিগগিরই আরেকটা যুদ্ধে জড়াতে চায় না হামাস-ইসরাইল হজে সাধারণ কাপড় বাদ,আসছে ন্যানোটেকনোলজি যুক্ত ইহরাম আবুধাবিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় গাড়ি রাখলে জরিমানা জেনেভায় ৩ ঘণ্টা কী আলোচনা করলেন বাইডেন-পুতিন সংসদে তোপের মুখে অর্থমন্ত্রী হোয়াটসঅ্যাপ লগ ইন আরও সুরক্ষিত হচ্ছে ছোট্ট মেয়ের কাছ থেকে নিপুণকে বিচ্ছিন্ন করে কারাগারে রাখা অমানবিক ভাতিজার জন্য নৌকার প্রার্থীকে নির্বাচন বর্জনের পরামর্শ এমপি ফিরোজের, অডিও ভাইরাল প্রমাণ করতে হবে ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার সত্যিকার জন্মদিন কি না পরীমনিকাণ্ডে আলোচিত কে এই অমি অপরাধীরা সুযোগ পাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনে তিন লাখ ৮০ হাজার পদ শূন্য দুই পাখির এক ‘মস্তিষ্ক’ রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় সু চির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু আজারবাইজানের সেই এলাকা ঘুরে এলেন এরদোগান উগ্রপন্থি ইহুদিদের পতাকা মিছিল ফিলিস্তিনে ফের উত্তেজনার শঙ্কা গাজায় ফের ইসরাইলি বিমান হামলা বিশ্বকাপের আয়োজক হতে চায় বাংলাদেশ অটোপাস পাচ্ছেন অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ডিসেম্বরের মধ্যে সব সেক্টর চালু করতে চায় মালয়েশিয়া