সোমবার ২ আগস্ট ২০২১ | ০২:৫১:৫৮

মোহনা সংবাদ ২৪ ডট কম

মা-বাবা বৃদ্ধাশ্রমে, রাস্তায় আপনার লাশ— এমন উন্নয়ন চাই না: হাছান মাহমুদ

It Admin Mohona, Mohona Songbad | আপডেট: ০৮:৪৩, জুন ২৬, ২০২১

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসবেন, রাস্তায় দুর্ঘটনা হবে মানুষ কাতরাবে, কিন্তু পাশ দিয়ে যাওয়া কেউ ফিরে তাকাবে না, পুলিশ এসে লাশ নিয়ে যাবে— এমন উন্নয়ন ও সমাজ আমরা চাই না।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র বস্তুগত উন্নয়ন দিয়ে উন্নয়ন কখনো টেকসই হয় না। বস্তুগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের আত্মিক উন্নয়ন প্রয়োজন। সেটি করতে হলে মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ, দেশাত্মবোধ ও মমত্ববোধের সমন্বয় ঘটাতে হবে। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র রচনা করতে চাই, যেটি বস্তুগত উন্নয়নের দিক দিয়ে একটা উন্নত রাষ্ট্র হবে, একইসঙ্গে একটি মানবিক রাষ্ট্রও গঠন হবে। যে উন্নয়ন বস্তুগত হবে। 

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামে রেডিসন ব্লু’র মেজবান হলে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট কনফারেন্স-২০২১ এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাছান এসব কথা বলেন।

রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট-৩২৮২ এই কনফারেন্সের আয়োজন করে। কনফারেন্সের আহ্বায়ক মো. তৈয়বের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- রোটারি ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি পিডিজি কেএম জয়নুল আবেদীন, জেলা গভর্নর ড. বেলাল উদ্দিন আহমেদ, রোটারিয়ান ফাতেমা জেবুন্নেছা প্রমুখ। 

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মধ্যযুগে যখন পৃথিবীর অর্থ ব্যবস্থা কৃষিনির্ভর ছিল, তখন আমাদের দেশ ধনী ছিল। মধ্য যুগে যে সমস্ত দেশের উন্নত কৃষি জমি ছিল তারাই ছিল ধনী। আমাদের উন্নত কৃষি জমি তখনো ছিল, এখনো আছে। আমাদের দেশে তিনবার ফসল হয়, ইউরোপে হয় একবার। পৃথিবীর অর্থ ব্যবস্থা যখন শিল্পনির্ভর হয়ে গেল তখন আমাদের মতো কৃষিনির্ভর দেশ থেকে বর্গি, ওলন্দাজ ও ইংরেজরা উপকরণ কিনে নিয়ে সেগুলো দিয়ে তৈরি করা পণ্য আমাদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করা শুরু করে, তখন আমরা দরিদ্র হয়ে যাই। এখান থেকে উপার্জন করে নিয়ে তাদের দেশকে উন্নত করেছে, এটাই বাস্তবতা। 

তিনি বলেন, আজকে আমরা সেই দৃশ্যপটটা বদলে দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য দেশকে স্বপ্নের ঠিকানায় নিয়ে যাওয়া। সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ১শটি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে, ইতোমধ্যে কয়েকটি ইন্ডাস্ট্রি উৎপাদনে গেছে। ১শটি অর্থনৈতিক অঞ্চল যখন প্রতিষ্ঠা হবে তখন আমরা পুরো দৃশ্যপট বদলে দিতে পারব। আজ বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে, আমরা উন্নত দেশে রূপান্তর করতে চাই। সেটি করতে হলে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্ঠা দরকার। 

আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, সমস্ত প্রতিকুলতার মধ্যেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এবং মাথাপিছু কৃষি জমির পরিমাণ সর্বনিম্ন হওয়ার পরও ঝড় বন্যা জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলা করে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। যেটি পৃথিবীকে নয় শুধু বিশ্ব খাদ্য সংস্থাকেও অবাক করে দিয়েছে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে পৃথিবীতে তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে চতুর্থ, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে চতুর্থ, আলু উৎপাদনে সপ্তম। অথচ আয়তনের দিক দিয়ে পৃথিবীতে ৯২তম। এটি সম্ভবপর হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্ব, সরকার কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করা এবং আমাদের কৃষকসহ বিপুল জনগোষ্ঠির পরিশ্রমের কারণে। 

মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ৫০তম বর্ষে মানব উন্নয়ন, সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ সমস্ত সূচকে আমরা অনেক আগেই পাকিস্তানকে অতিক্রম করেছি। মানব উন্নয়ন ও সামাজিক সূচকে ভারতকেও অনেক আগে অতিক্রম করেছি। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রেও ভারতকে অতিক্রম করেছি, এটি চাট্টিখানি কথা নয়। 

তিনি বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০সালে পৃথিবীতে মাত্র ২০টি দেশে পজিটিভ জিডিপি গ্রোথ রেট হয়েছে। সেই বিশটির মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। করোনা মহামারির মধ্যে আমাদের মাথাপিছু আয় ২০০ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। সেটি সম্ভবপর হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্ব ও সম্মিলিত প্রচেষ্ঠার কারণে। 

রোটারি ক্লাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মানবতার সেবার ব্রত নিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, আজকের পৃথিবীটা মানুষকে প্রচণ্ড আত্মকেন্দ্রিক করে ফেলেছে। মানুষ এখন শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবে অপরের জন্য ভাবে না। একবিংশ শতাব্দিতে মানুষ অনেক উন্নতি করেছে।  মানুষ এখন যন্ত্রের উপর ক্রমাগত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এটির সঙ্গে সঙ্গে মানুষও অনুভূতিহীন যন্ত্রের মতো হয়ে গেছে, যেটি মানুষের জন্য প্রচণ্ড ক্ষতিকর। সেই প্রেক্ষাপটে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্য নিয়েই শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল কাজ করছে।



অ্যাড বিভাগ

শিরোনাম »
২৩ দফা নির্দেশনা দিয়ে কঠোর লকডাউন শুরু নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান কাদেরের পৃথক জলাভূমি মন্ত্রণালয় গঠন করতে হাইকোর্টের নির্দেশ দুই দিনে ঢাকা ছেড়েছেন ১৭ লাখ সিম ব্যবহারকারী যে কারণে লিটনের বদলে কিপিং করলেন সোহান স্ত্রীর সমর্থনে সেঞ্চুরি পেলেন লিটন দক্ষিণ আফ্রিকায় এক মাসে ২৮ বাংলাদেশির মৃত্যু দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০২২ সালে ৫.১ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি ভোগান্তিতে দিশেহারা সাধারণ রোগী ইউরো ফাইনাল বাতিল হতে বসেছিল ৭.৫ ওভারে ১৩ রানে ৫ উইকেট নিলেন সাকিব পাকিস্তান সীমান্ত দখলের পর ভিডিওতে যা বলল তালেবান হিজবুল্লাহর কাছে দেড় লাখ ক্ষেপণাস্ত্র উৎকণ্ঠায় ইসরাইল ৯ তলা থেকে স্বামীর হাত ফসকে পড়ে গেলেন তরুণী মুফতি মাহমুদ হাসানকে নিয়ে ভয়ংকর তথ্য দিল র‌্যাব বাংলাদেশের বিশাল জয়ে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন যুবলীগের পক্ষ থেকে দুস্থদের ঈদ উপহার বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে স্কোয়াড ঘোষণা ইরানে বিয়েতে উৎসাহিত করতে ইসলামিক ডেটিং অ্যাপ করোনায় রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীবের ইন্তেকাল জ্যাকব জুমার মুক্তি আন্দোলনে গুলিতে নিহত বেড়ে ৭২ আফগানিস্তান নিয়ে যা বললেন ইরানের সেনাপ্রধান টিকা নিবন্ধনের বয়সসীমা ১৮ করার সুপারিশ স্বাস্থ্যবিধি শিথিল হলেই বিপদ ম্যারাডোনার সঙ্গে মেসির তুলনা যা বললেন ম্যারাডোনার ছেলে মুশফিকের হঠাৎ সিদ্ধান্তে যা বলল বিসিবি হোয়াইটওয়াশ হওয়া পাকিস্তানের জন্য লজ্জাজনক করোনা আক্রান্ত মুশফিকের মা-বাবা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টাইগারদের চ্যালেঞ্জিং স্কোর